শাহ আলী বাগদাদীর মাজার

শাহ আলী বাগদাদীর মাজার

শাহ আলী বাগদাদী ছিলেন তৎকালীন পাক-ভারত উপমহাদেশে আরবাঞ্চল হতে ধর্ম প্রচারার্থে আগত সুফি ব্যক্তিত্ব। তিনি একশত সঙ্গী নিয়ে এতদাঞ্চলে আগমন করেন। তার নামানুসারে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুর-এক নম্বরে তার স্মাধি রয়েছে।

শাহ আলীর জন্ম, দিল্লী ও বাংলাদেশ আগমন এবং মৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে সকলের ঐকমত্য্যের বিষয়টি হল: তার জন্ম বাগদাদের ফোরাত নদীর তীরবর্তী একটি কসবাতে। তিনি আলীর বংশধর। ইমাম হোসাইন হতে ইমাম আলী নকীর পিতা পর্যন্ত তার পূর্বপুরুষগনের মধ্যে সকলেই বসবাস করতেন মদিনায়। তার বংশ হতে শাহ ছৈয়দ সুলতান আলী সর্বপ্রথম বাগদাদে আসেন, যিনি ছিলেন ইমাম আলী নকীর ছোট ভাই। পরবর্তীতে তিনি দিল্লীর সুলতাদের আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন।বাগদাদের বাদশাহ সৈয়দ ফখরুদ্দিন রাজির জ্যেষ্ঠপুত্র ছিলেন ছৈয়দ শাহ আলী বোগদাদী।

ঢাকায় সুলতানি আমলে যে কয়েকজন মুসলিম সুফি-সাধকের আগমন ঘটেছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত শাহ আলী বাগদাদী (র.)। ঢাকা শহর-সংলগ্ন তুরাগ নদীর ধারে মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদীর মাজার অবস্থিত। শাহ আলী বাগদাদীর দরগাহের ফাসাদে পূর্বদিকে প্রবেশ পথের উপরে উৎকীর্ণ শিলালিপিতে আদি মসজিদ নির্মাণের তারিখ লেখা আছে ১৪৮০ সাল (৮৮৫ হিজরি)। এটি উৎকীর্ণ করা হয় সুলতান শামস উদ্দিন ইউসুফ শাহের সময়ে। দরগাহটি সম্পর্কে জানা যায় জেমস ওয়াইজের লেখায়; ঢাকার পার্শ্ববর্তী স্থানে শিলালিপিটি পেয়ে এইচ ব্লকমানের কাছে পাঠোদ্ধারের জন্য প্রেরণ করে। শিলালিপিটি দুই ফুট সাড়ে আট ইঞ্চি ১০ (দশ) ইঞ্চি পরিমাণ কষ্টিপাথরে লিখিত। এটি আরবি ভাষায় ‘নাসক’ লিখন রীতিতে উৎকীর্ণ। তিন সারি আরবি শিলালিপির নিচে রয়েছে বুস্তানের শেখ সাদীর একটি ফার্সি কবিতার চরণ। দ্বিতীয় শিলালিপিটি প্রবেশপথের ডান পাশে ফার্সি ভাষায় ১০টি সারিতে বিন্যস্ত; এতে আদি মসজিদ নির্মাণ তারিখ, সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও দু’বার (১৫৭৭-৭৮/৯৮৫ এবং ১৮০৬/১২২১) সংস্কারের সময়কাল উল্লেখ আছে। তৃতীয়বার দরগাহটি সংস্কার করেন নুসরত জংয়ের সময়ে মগবাজারের শাহ মোহাম্মদী।

মাজারের পশ্চিমদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মিরপুর কবরস্থান অবস্থিত। আদিতে মিরপুর দরগাহটি ছিল ঢাকায় সুলতানি আমলে নির্মিত একটি মসজিদ। আলোচ্য শাহ আলী বাগদাদীর মিরপুর দরগাহটি বর্গাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট। বাইরে থেকে প্রতি বাহুর পরিমাপ ৩৬ ফুট এবং দেয়াল ৭ ফুট প্রশস্ত। এটি একটি বড় আকারের গম্বুজে আচ্ছাদিত এবং গম্বুজ নির্মাণে পেনডেনটিভ পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে। চার কোণে চারটি সংলগ্ন পার্শ্ব বুরুজ আছে। বুরুজগুলো অষ্টভুজাকৃতির এবং এর বেশির ভাগ কলস ও পদ্মকলির ফিনিয়াল যুক্ত। ছাদের কার্নিশ ও গম্বুজের নিচে পদ্ম পাপড়ির মতো মারলন নকশা দেখা যায়। দরগাহ ভবনে দুটি প্রবেশপথ রয়েছে যথাক্রমে পূর্ব ও দক্ষিণে। দরগাহের উত্তরদিকে ঢাকার নবাব আবদুল গণি নির্মাণ করেছেন একটি মসজিদ। সরকার অনুমোদিত একটি কমিটি মাধ্যমে দরগাহটি পরিচালিত হয়ে থাকে।