রূপলাল হাউজ

রূপলাল হাউজ

ধারনা করা হয় ইংরেজী উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ঢাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শ্রী রুপলাল দাস তার পরিবার সহ বসবাসের জন্য ইমারতের নকশা তৈরী করেন। পরবর্তীতে তিনি এই অভিজাত ও রাজকীয় রুপলাল হাউজ নির্মাণ করেছিলেন। অতঃপর তার উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে এ ইমারত ধীরে ধীরে রুপলাল হাউজের সম্প্রসারণের কাজ করতে থাকে।

ভবনের বর্ণনা

পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বি পরিকল্পিত এ ইমারতের সর্ব পশ্চিমাংশ উত্তর দিকে উদগত। এ উদগত অংশের সামনের দিকে একটি বারান্দা আছে। ফ্যাসাদে আছে ছয়টি করনিথীয় থামের একটি সারি। এদের ধড় শীরতোলা। অনুরুপ কার্নিস থামের আছে একটি বিরাট আকারের পডিয়াম। বারান্দা ব্যতীত ইমারতটির অপরটি দ্বিতল। মধ্যবর্তী অংশ দিয়ে ইমারতের বিপরীত দিকে যাতায়াতের জন্য আছে একটি উম্মুক্ত অংশ। এ ফটকের অনতিদূরে পূর্বদিকে সম আকৃতির আরও একটি বারান্দা দেখা যায়। এ ইমারতের পূর্বাংশের প্রান্ত থেকে উদগত অংশ উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে। তবে এ অংশ মূল নির্মাণ যুগের পরবর্তীকালের বলে অনুমান করা যায়। সমতল ছাদের কয়েকটি ছাদের কয়েকটি স্থানে তিনটি চিলেকোঠা আছে। এর দরজা ও জানালাগুলোতে কাঠের ভেনেসীয় গ্রিল সম্বলিত পাল্লা ব্যবহৃত হয়েছে। সিঁড়ির বেড়িতে লোহার অলঙ্করণ খচিত ফ্রেম আছে। খিলানের টিমপেনামে রঙ্গিন কাঁচের অলঙ্করনও লক্ষ্য করা যায়।

স্থাপনার পরিবর্তন

রুপলাল হাউজের সর্বশেষ মালিক ছিল শ্রী রুপলাল দাসের পৌত্র যোগেন্দ্র দাস ও তারক নাথ দাস। তারা ১৯৭১ ইং সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের পূর্বে এদেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়ে কলকাতার রোটারি উকিলের মাধ্যমে দলিল করে রুপলাল হাউজের মালিকানা ভারতের বাসিন্দা জনাব জালালের পূত্র মোহাম্মদ সিদ্দিক জামালকে প্রদান করে। এই রুপলাল হাউজের সর্বশেষ মালিক মোঃ সিদ্দিক জামাল পরবর্তীতে ১৯৭৩ ইং সালে জামাল পরিবার ভারতে চলে যায়।

কর্তৃপক্ষ

১৯৭৪ ইং সালে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ পরিত্যাক্ত বাড়িটি রক্ষী বাহিনীর জন্য রিকুইজিশন করে নেন। রক্ষী বাহিনীর বিলুপ্তি ঘোষনার পর ১৯৭৬ ইং সালে রুপলাল হাউজ পরিত্যাক্ত সম্পত্তি ঘোষিত হয়। পরবর্তী সময় থেকে এ বাড়িটি পূর্ত মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রনে আছে।

বর্তমান অবস্থা

বর্তমান রুপলার হাউজ তথা জামাল হাউজ এর বিভিন্ন কোঠায় কিছু বিজিবি সদস্য নিজ নিজ পরিবার পরিজনসহ বসবাস করছে। তারা পোস্তগোলাস্থ ১২৪৩ নং খুটির সদস্য এবং কমান্ডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রনাধীন। উক্ত ভবনে বসবাসকারীদের কোন ভাড়া পরিশোধ করতে হয় না।

এছাড়া ইমারতে অপরাপর কোঠাগুলো বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তারা মাসিক নির্ধারিত হারে ভাড়া প্রদানের বিনিময়ে পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে লীজ নিয়ে কোঠাগুলো নিজ নিজ কাজে ব্যবহার করছে। তারা তাদের প্রদেয় RGH খাতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করে চালান সংরক্ষন করে আসছে। রুপলাল হাউজ আহসান মঞ্জিলের প্রতিপক্ষের ভূমিকা পালন করতো এবং এর একটি অংশ রংমহল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।