নীলকুঠির

নীলকুঠির

কৃষক বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, তেঁভাগা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নীলফামারীর ইতিহাসে গৌরবময় কিছু অধ্যায়। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে মৌজা নটখানায় নীলচাষের একটি বৃহৎ খামার ছিল। ১৮৪৭-৪৮ খ্রিস্টাব্দে নীলচাষে লোকসান হওয়ায় কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে নেমে আসে নিরহ কৃষকদের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন ও অত্যাচার। ১৮৫৯-৬০ সালে কৃষকদের ব্যাপক আন্দোলনের ফলে নীলচাষ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন এলাকা ছেড়ে নীলকরেরা পালিয়ে যায়। সেই নীলখামার থেকে নীলখামারী আর বর্তমানে নীলফামারী নামের সার্থকতা লাভ করে। তাই জেলাবাসীর মুখে মুখে বহমান- ‘নীলখামারের নীলখামারী-নীল বিদ্রোহে আজ নীলফামারী।’এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা, বুড়িখোড়া নদী, বুড়ি তিস্তা, ইছামতি, চাঁড়ালকাটা, সর্বমঙ্গলা, যমুনাশ্বরী, সালকী, কুমলাইসহ অনেক নদ-নদী। ইতিহাস থেকে জানা যায়, জেলা শহরের উপকেন্দ্রে সর্বমঙ্গলা নদীর তীরে শাখা ও মাছা নামক দুটি বন্দর ছিল। সেগুলো থেকে নীলকরদের মালামাল আমদানি ও রফতানি হতো। ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ মে জেলার ডিমলার বাগডোগরায় মহকুমার প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মে স্থানান্তর করে বর্তমান জেলা প্রশাসকের বাসভবন সংলগ্ন সুউচ্চ টিনের ভবনটিকে মহকুমা দফতর স্থাপন করা হয়। সেই সময় ২১৪ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে নীলফামারী সদর থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। কালের বিবর্তনে মহকুমা শহরে ১৯৬৮ সালে স্থাপিত করা হয় টাউন কমিটি। ১৯৮৩ সালে মহকুমা থেকে জেলায় রূপান্তরিত হয় নীলফামারী।জানা যায়, দুই শতাধিক বছর পূর্বে এই অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করেন ইংরেজরা। এখানকার উর্বর মাটি নীল চাষের উপযোগী হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় এ জেলায় অসংখ্য নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরাকুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, টেঙ্গনমারী, রামনগর, বাঙালি পাড়া বিভিন্ন স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়। সেই সময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে নীলফামারীতেই বেশি পরিমাণে শস্য উৎপাদিত হতো। উর্বর মাটির গুণে নীলকরদের ব্যাপক আগমন ঘটে এ অঞ্চলে।ঈদ ও পূজার ছুটিসহ প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে নীলকরদের নীলকুঠি দেখার জন্য দর্শনার্থীরা ভিড় করে। এখনও নীলগাছের ছবি তোলার জন্য নীলফামারী সার্কিট হাউস চত্বরে আসে অনেকে।