দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ি

দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ি

রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলা কার্যালয় ও পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের অনতি দূরে প্রায় ৮০ একর জমির উপর অবস্থিত ইতিহাস খ্যাত প্রজা হিতৈষী জমিদার দেবী চৌধুরানীর জমিদার বাড়ি। রাজবাড়ির চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট বড় পুকুর,বাড়ির পিছনে কালের সাক্ষী হয়ে কোনমতে বেচে আছে দেবী চৌধুরী খননকৃত ঢুসমারা খাল(যার অর্থ হঠাত বা আকস্মিক সৃষ্টি)।দেবী চৌধুরানী নৌকাযোগে এই খাল দিয়ে বিভিন্ন স্থানে গোপনে যাতায়াত করতেন।বিশাল এলাকা নিয়ে ছড়ানো ছিটানো রাজবাড়ির এসব দালান আজ ধবংস প্রায়।দালানের ইট, কাঠ সুড়কি খুলে পড়েছে। দেয়ালের জীর্নতা ও শেওলার আচড়ে পরগাছা জন্মেছে। ধবংস প্রাপ্ত রাজবাড়ির নাট্য মন্দির ও কাছারি ঘরটি বর্তমানে পীরগাছা উপজেলার কাছারি ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রাজবাড়ির ভিতরে নির্মিত প্রাচীন মন্দিরগুলো ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। জমিদার নারায়ন রায় কর্তৃক নির্মিত অপূর্ব কারুকার্য মন্ডিত দেড় শতাধিক বছরের পুরানো দৃষ্টিনন্দিত ত্রি বিগ্রহ মন্দির ধ্বংসের অপেক্ষায় দিন গুনছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ও তাদের এদেশীয় অনুচর দেবী সিং এর এদেশে অবর্ননীয় প্রজা পীড়নের বিরুদ্ধে প্রথম যে নারী অস্ত্র হাতে রক্তক্ষয়ী ফকির সন্ন্যাসী ও ১৮৭৩ সালে রংপুরের প্রজা বিদ্রোহ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি ছিলেন পীরগাছার মন্থনা জমিদার। মন্থনা জমিদার দেবী চৌধুরীর আসল নাম ছিল জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানী। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টপাধ্যয় তার রচিত আনন্দ মঠ ও দেবীচৌধুরানী নামে দুখানা বই রচনা করেছিলেন।

 

তথ্য ও ছবিঃ ইন্টারনেট