লালনের মেলা, কুষ্টিয়া

লালনের মেলা, কুষ্টিয়া

লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়াতে একটি আখড়া তৈরি করেন, যেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের নীতি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। তাঁর শিষ্যরা তাঁকে “সাঁই’’ বলে সম্বোধন করতেন। তিনি প্রতি শীতকালে আখড়ায় একটি ভান্ডারা (মহোৎসব) আয়োজন করতেন। যেখানে সহস্রাধিক শিষ্য ও সম্প্রদায়ের লোক একত্রিত হতেন এবং সেখানে সংগীত ও আলোচনা হত। চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর এবং পশ্চিমে অনেক দূর পর্যন্ত বাংলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বহুসংখ্যক লোক লালন ফকিরের শিষ্য ছিলেন; শোনা যায় তাঁর শিষ্যের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের বেশি ছিল।

লালন সাঁইজীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার লালন আখড়ায় ৩দিন ব্যাপী বিশাল এক মেলা হয় যা লালন মেলা নামে পরিচিত। রাতভর চলে লালন গানের আসর। বছরের এই ৩টা দিন লালন আখড়া থাকে জমজমাট। প্রতি বছর দুবা’র এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। একবার মার্চ মাসে মধু পূণিমাতে এবং অক্টোবর মাসে তিরোধ্যান মাসে। লালন মেলা উপলক্ষে আখড়াবাড়ীর লালন মাঝারকে সাজানো হয় নানা সাজে। প্রধান ফটক আর মূল মাঝারে সাদা, লাল, নীল আলোকসজ্জা, নীল আলোকসজ্জা, বিশাল তোরণ নির্মাণ ও মাঝারের বাইরে কালী নদীর ভরাটকৃত জায়গায় স্থাপিত লালন মঞ্চের সামনে বিশাল ছামিয়ানা টাঙানো হয়। আলোচনা মঞ্চের চারপাশ লালন মাঝারে প্রধান রাস্তাজুড়ে বসে গ্রামীনমেলা।

মেলায় নানা রকম গৃহসামগ্রী, কাঠের তৈরি সাংসারিক নানা জিনিসপত্র, গরম জিলাপি, পাঁপড় ভাজা, লালনের গানের সিডি, গেঞ্জি, শন পাঁপড়ি, আখের শরবত, হোটেল, খই-বাতাসাসহ হরেক রকম পসরা বসে।

লালন শাহের মাজার যেভাবে যাবেন

কুষ্টিয়ার অদূরে অবস্থিত পোড়াদহ রেল স্টেশনে নেমে বাস কিংবা অটোরিকশায় চড়ে শহরে আসতে হবে। শহর থেকে রিকশা অথবা অটোরিকশায় লালন শাহের মাজারে যেতে পারেন। এছাড়াও প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি নিয়েও যেতে পারেন সেখানে।